- কার্ল ভিনসন নামের ওই স্ট্রাইক গ্রুপটিতে একই নামের একটি বিমানবাহী রণতরী আছে। রয়টার্স ফাইল
শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’কে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে কোরীয় উপদ্বীপের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।
অস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে উত্তর কোরিয়ার তৎপরতায় বাড়তে থাকা উদ্বেগের জেরে নৌবাহিনীর এই স্ট্রাইক গ্রুপকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে বলে শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি।
কার্ল ভিনসন নামের ওই স্ট্রাইক গ্রুপটিতে একই নামের একটি বিমানবাহী রণতরী আছে। রণতরীর এই বহরটি সিঙ্গাপুর থেকে কোরীয় উপদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা।
উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধংদেহী আচরণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন বলে অনুভব করছি আমরা।”
দিন দিন পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে উত্তর কোরিয়া। চলতি মাসের প্রথমদিকেও দেশটি তরল জ্বালানি চালিত একটি স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে।
শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তৃতীয় বহর জানিয়েছে, ওই স্ট্রাইক গ্রুপটিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর দিকে যেতে বলা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট গন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক ওই বহরটির অস্ট্রেলিয়ার একটি বন্দরে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যাবে এটি।
চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনসহ দেশটির কর্মকর্তারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা একই ধরনের কোনো পরীক্ষা করতে যাচ্ছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ১৫ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ার স্থপতি কিম ইল সাংয়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকীতে পরীক্ষাটি করা হতে পারে।
গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ন্ত্রণে বেইজিংকে আরো বেশি কিছু করার তাগাদা দিয়েছেন ট্রাম্প।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য করণীয় বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা। এগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ থাকলেও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও মিত্র প্রতিবেশীকে নিয়ন্ত্রণে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তারা।
বিকল্পগুলোর মধ্যে আগ বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর বিষয়টি থাকলেও পর্যালোচনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
SHARE THIS