Sep 24, 2018

মাহমুদ উল্লাহর ও ইমরুল কায়েসের ১২৮ রানের পার্টনারশিপে বাচলো বাংলাদেশ


‘অপরাধী রে...’ গানটির একটি যোগসূত্র নিশ্চয়ই আছে! তাঁরা নিজেরা এটি গাইতে গেলেও সমস্যা! সমস্যা অন্য কেউ বাজিয়ে দিলেও! নিজেদের কণ্ঠে গাওয়া এই গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল গত জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে। এরপর সিরিজ শুরু হতেই একে একে ব্যাটসম্যানরা নিজেরাই দাঁড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিলেন অপরাধীর কাঠগড়ায়। তাঁরা কেউ রশিদ খানের লেগস্পিনে নাজেহাল হয়েছেন। আবার তাঁর গুগলির ধাঁধায় পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেটও দিয়েছেন। অফস্পিনার মুজিবর রহমানকে সামলাতে গিয়েও নাকের জল-চোখের জল এক হয়েছে কারো কারো। সুবাদে হোয়াইটওয়াশের লজ্জার মলাটেই বন্দি হয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচ খেলতে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে এসেই বোঝা গেল। আফগানদের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের সময়ও ডিজে চমক হিসেবে স্টেডিয়ামের পিএ সিস্টেমে একাধিক বাংলা গান বাজিয়েছেন। কাল বাজালেন আবারও। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ইনিংসজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ের হিট বেশ কিছু বাংলা গানই বাজল। তারই অন্যতম ‘অপরাধী রে...’ বাজতেই বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝে আলোড়নও পড়ে গেল।
ড্রিংকস ব্রেকের সময় সেটি যখন বাজছে, তখন ১৮ রানে ২ উইকেট হারানোর মতো প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নেওয়া ব্যাটিংই করছিলেন লিটন কুমার দাশ ও মুশফিকুর রহিম। তাঁদের ব্যাটে পর পর দুই ম্যাচে হারের হতাশার মেঘ কাটবে বলে যখন আশা, তখনই ছন্দপতন। এমনই সে ছন্দপতন যে লিটন-মুশফিকের ৬৩ রানের পার্টনারশিপ ভাঙতে না ভাঙতেই রীতিমতো দিশাহারা বাংলাদেশ। ৬ রানের মধ্যেই তিন উইকেট নেই। ২ উইকেটে ৮১ রান থেকে হুট করেই বাংলাদেশ ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দল। আগের দুই ম্যাচেও এ রকম পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যর্থতায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে নিয়ে নতুন করেই জাগছিল পুরনো সংশয়।
স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত পুঁজি জমা করতে না পারার সেই সংশয় একে একে আরো জাগিয়ে যান লিটন, সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। এর মধ্যে প্রথম দুজন আত্মহননের অপরাধে অপরাধী। পরেরজনও কিছুটা তবে পুরোটা নয়, যেহেতু তাঁর বিদায়ে সঙ্গীরও কিছুটা দায় আছে। সব মিলিয়ে তখনই যেন এশিয়া কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় লেখা হয়ে যেতে বসেছিল। সেটি যে শেষ পর্যন্ত যায়নি, তার কারণ মাহমুদ উল্লাহর সঙ্গে খুলনা-ঢাকা-দুবাই হয়ে আবুধাবি আসা ইমরুল কায়েসের ১২৮ রানের ষষ্ঠ উইকেট পার্টনারশিপ। এই পার্টনারশিপটি ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের সেরাও।
হুট করেই দলে আসা ইমরুল তাঁর নতুন ভূমিকায় প্রথমবারের চেষ্টায় সফলও। কারণ এর আগে খেলা তাঁর ৭০ ওয়ানডের ৬১টিতেই ওপেন করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তিন নম্বরে খেলেছেন বাকি ৯ ম্যাচে। এবার সেই তিনি নামলেন ছয় নম্বরে। মাহমুদের সঙ্গে বিপর্যয় সামলে নেওয়ার পর অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসে দলকে ২৪৯ রান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে দায়মোচনও করেছেন। তিনি দুই পা এগিয়ে যখন পিছিয়ে যান, ততক্ষণে রান নেওয়ার জন্য নন স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে অনেক দূর এগিয়ে আর ফেরার উপায় ছিল না মুশফিকের।
এই ম্যাচেই তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের মাইলফলক পেরোনোর পর মুশফিকের রান আউটে বিপর্যয় আরো ঘনীভূত দলের। যেটির সূচনা করে যান দুই ‘অপরাধী’ লিটন ও সাকিব। ভালো খেলতে খেলতে হুট করেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার দুর্নাম এবারও অব্যাহত রেখেছেন প্রথমজন। রশিদ খানকে ইনসাইড আউট শটে দুর্দান্ত এক বাউন্ডারি হাঁকানোর পরের বলেই স্লগ করতে গেলেন লিটন, ক্যাচ উঠে গেল। ফিরলেন ৪১ রানে। এক বল পর অপরাধীর কাঠগড়ায় উঠে যেতে হলো সাকিবকেও। রশিদের বলই মিড উইকেটে ঠেলেই ছুট লাগান। রান নেওয়ারই উপায় ছিল না তবু দৌড় দেন এবং ফিরতে গিয়ে পা পিছলে যাওয়ায় অবধারিত রান আউট।  
আগের দুই ম্যাচে ডট বলের সমস্যা ছিল। এই ম্যাচে রান নিতে গিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির নতুন সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। তাতে বাংলাদেশ লণ্ডভণ্ড হতে হতেও হয়নি মাহমুদ উল্লাহ ও ইমরুলের ফিফটিতে। এ যাত্রায় তাঁরা পার করে নিলেও লিটন কিংবা সাকিবের অপরাধ আড়াল হয়নি।
সূত্র: অনলাইন

SHARE THIS