বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফোটে না’। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নারীর সংজ্ঞা ছিল এই রকম। কিন্তু এসবের ব্যতিক্রম ‘চরিত্রহীন’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যেমন বিনোদিনী, শরৎচন্দ্রেরও তেমন কিরণময়ী। নিপীড়িত পল্লিনারীর থেকে সে অনেকটাই আলাদা। তাঁর জীবন ঘিরে রেখেছে দুই পুরুষ। সতীশ আর হারান। এর মধ্যে আরও এর রমণী রয়েছে। সাবিত্রী। এই চরিত্রটিও ব্যতিক্রমী। কথাশিল্পীর এই গল্প এবার আসছে ওয়েব সিরিজ হয়ে।
নাম অপরিবর্তিত। ‘চরিত্রহীন’। ২৯ সেপ্টেম্বর হইচইয়ে দেখা যাবে ছবিটি। কিন্তু উপন্যাস এখানে আদ্যোপান্ত উঠে আসেনি। ব্যতিক্রমী হলেও কিরণময়ী বা সাবিত্রী এখানে সাহসিনী। প্রেম এখানে শুধু মানসিক নয়। মনের পাশাপাশি শরীরেরও যে চাহিদা থাকে মানুষের, তা উঠে এসেছে গল্পে। তার জন্য নারীকে ‘বেশ্যা’ বলতেও পিছু হটেনি সমাজ।
যুগে সঙ্গে তাল রেখে বদলেছে চরিত্রদের চরিত্রায়ণ। একসময় শিলিগুড়িতে একটি নামী কোম্পানিতে চাকুরিরত হারান ঘটনাচক্রে এক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তারপর থেকেই শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যায় সে। ফলে বাড়িতেই দিন কাটে তার। কিরণময়ী তার স্বামীকে ভালবাসলেও হারানের মধ্যে ক্রমশ কিরণময়ীকে ঘিরে সন্দেহ প্রবণতা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইনার সতীশ। ভালবাসার জন্য কাঙাল সতীশ মনে প্রাণে চায় ম্যাসাজ পার্লারে কর্মরতা সাবিত্রীকে। যদিও সরোজিনী বলে আরও একটি মেয়ে তাকে ভালবাসে। এমতাবস্থায় ঘটনাচক্রে একদিন সাবিত্রীর সঙ্গে কিরণময়ীর পরিচয় ঘটে। সেই সূত্র ধরে সতীশের সঙ্গেও পরিচয় হয় কিরণময়ীর। তৈরি হয় একটি জটিল সম্পর্কের।
ওয়েব সিরিজটির মাধ্যমে গল্পটিকে এখনকার আঙিনায় গড়ে তোলার রূপটি অর্থাৎ চিত্রনাট্য লেখার কাজটি পরিচালকের সঙ্গে যৌথভাবে করেছেন কল্লোল লাহিড়ী। সিনেমাটোগ্রাফার ইন্দ্রনাথ মারিক। সংগীত পরিচালনায় শুভ প্রামাণিক। ওয়েব সিরিজটিতে থিম সং হিসাবে নতুন আঙ্গিকে শোনা যাবে কীর্তন। তাতে যে বেশ চমক থাকবে তা জানিয়েছেন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য।
সম্প্রতি দেবালয়ের তৈরি ‘চরিত্রহীন’-এর ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। ছবির বক্তব্য সেখানে স্পষ্ট। আধুনিকতার মোড়কে শরীরী প্রেম সেখানে পরতে পরতে উপস্থিত। ওয়েব সিরিজটিতে নয়না গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখা যাবে কিরণময়ীর চরিত্রে। অন্যদিকে কিরণময়ীর স্বামী হারানের চরিত্রে রয়েছেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়, সতীশ ও সাবিত্রীর চরিত্রে রয়েছেন সৌরভ দাস ও সায়নী ঘোষ।
