
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, আইন মেনেই খালেদা জিয়ার বিচার হচ্ছে। বিচারে রায় যেটা হবে সেটাই কার্যকর করা হবে। এর জন্য আলাদা প্রিপারেশন কিংবা প্রোপাগা-া ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি প্রিয়, ভাংচুর পছন্দ করে না। সুতরাং ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে কোন বিশৃঙ্খলা হবে না। গতকাল (শুক্রবার) হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত আমীরের সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় তিনি দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা) হেফাজত আমীরের কার্যালয়ে সাক্ষাত করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা মাদ্রাসায় অবস্থানের পর মন্ত্রী আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বার ফেস্টিভ্যাল-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সড়কপথে নগরীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কোন সমঝোতার জন্য এ সাক্ষাত কিনা সাংবদিকদের প্রশ্নেন জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হেফাজত আমীরের সাথে রাজনৈতিক কোন আলাপ হয়নি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। হুজুরের (আল্লামা শফি) শারীরিক অসুস্থতার কথা শুনেছি। এজন্য উনাকে দেখার এবং হাটহাজারী মাদ্রাসা দেখার একটা আগ্রহ ছিল, সেজন্যই এসেছি। মন্ত্রী জামিয়ার দারুল হাদীস পরিদর্শন শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এই মাদ্রাসায় এসে আমি অভিভূত হয়েছি। এখানে না এলে আমি কখনো বুঝতে পারতাম না, এই মাদ্রাসায় এতগুলো ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের বাংলায় কথা বলার ধরণ দেখলে আমার আশ্চর্য লাগে, এখানে পড়ালেখা করে কীভাবে তারা এত সুন্দর বাংলা লেখতে ও বলতে পারে? মন্ত্রী মাদ্রাসায় পৌঁছালে মুফতি জসীমুদ্দীন ও মাওলানা আনাস মাদানী তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বেনায়ে ফুজলায়ে দরুল ঊলুম হাটহাজারী নামে ছাত্রদের জন্য একটি আবাসিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। হেফাজত আমীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এবং পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। এসময় মন্ত্রী হেফাজত আমীরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একান্ত আলাপচারিতায় হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, উম্মুল মাদারেসীনে কোন জঙ্গি নেই। আমীর এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ক্বওমী সনদের স্বীকৃতির ব্যাপারে আইন পাশ করার যে কথা ছিল, সেটা কতদূর হয়েছে জানতে চান। মন্ত্রী বলেন, আইন পাশ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (মান) বিল উত্থাপন করা হবে। এসময় হেফাজত আমীর দেশ, সরকার ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন। দোয়া শেষে তিনি হুজুরের কামরায় জামাতের সাথে আছরের নামাজ আদায় করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে হেফাজত আমীরকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, সাতকানিয়ার এমপি আবু রেজা চৌধুরী নদভী, জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান মনির, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি জসীমুদ্দীন, হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মাওলানা নূরুল ইসলাম জাদিদ, মাওলানা আহমাদ দীদার, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।