জম্মু-কাশ্মিরের সাঞ্জওয়ানে সেনা ক্যাম্পে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বেশ কয়েকজন জঙ্গি। এই হামলায় নিহত হয়েছেন দুই সেনা কর্মকর্তা। আহত হয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁর মেয়েসহ ৬ জন। এক সেনা কর্মকতা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জঙ্গিরা সংখ্যায় ৩-৪ জন রয়েছে। তারা জইশ জঙ্গিগোষ্ঠীর।
সেনা সূত্রে খবর, এ দিন জঙ্গিরা অতর্কিতে সেনা ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাদের লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে। গ্রেনেডও ছোড়ে তাঁদের লক্ষ্য করে। পাল্টা জবাব দেয় জওয়ানরাও। দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। জম্মুর প্রাণকেন্দ্রে কয়েক একর জুড়ে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পের ভিতরে রয়েছে সেনা আবাসন, স্কুল। আশাপাশেও জনবসতি রয়েছে। পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে জম্মু-পঠানকোট হাইওয়ে।
গুলির লড়াই চালাকালীন ওই জঙ্গিরা সেনা আবাসনের একটিকে ঢুকে পড়ে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে জম্মু পুলিশের ডিজি এস ডি সিংহ জামওয়াল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সেনার বিশেষ বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। এই সেনা ক্যাম্পের ৫০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে কয়েকটি স্কুল। জেলা প্রশাসন সেগুলোকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ক্যাম্পের আশপাশে রয়েছে জনবসতি থাকায় খুব সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেনা। নজরে রাখা হয়েছে ক্যাম্পের আশপাশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলি। হেলিকপ্টারেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে জঙ্গিরা সেনা ক্যাম্পে ঢুকে পড়ল তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিদের যত দ্রুত সম্ভব খতম করাই এখন প্রধান কাজ। রাজ্যে হামলা হতে পারে, এমন সতর্কবার্তা অবশ্য আগেই দিয়ে রেখেছিল গোয়েন্দারা। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল পুলিশ ও সেনাকে। এই জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্র: আনন্দবাজার
